ভ্যালেন্টাইন'স ডে বর্তমানে প্রেম, রোমান্স এবং উপহার বিনিময়ের একটি মধুর উৎসব হিসেবে পরিচিত হলেও এর সূচনা ছিল বেশ অন্ধকার এবং রক্তক্ষয়ী। ধারণা করা হয় ভ্যালেন্টাইন’স ডে এর উৎপত্তি প্রাচীন রোমে যা পালিত হতো ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারী ‘লুপারকালিয়া’ উৎসব নামে। সেই উৎসবে রোমান পুরুষরা ছাগল ও কুকুর ব/লি দিতো এবং সেই পশুর চামড়া দিয়ে মহিলাদের চাবুক মারতো, কারণ তারা বিশ্বাস করত এটি তাদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
এমনকি সেই সময় সঙ্গী নির্বাচনের জন্য লটারির মতো এক অদ্ভুত প্রথাও প্রচলিত ছিল। পুরুষরা একটি পাত্র থেকে নারীদের নাম তুলে নিত, উৎসব চলাকালীন তারা যুগল হিসেবে থাকতো এবং অনেক ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ীও হতো।উৎসব চলাকালীন রোমানরা মদ্যপ এবং নগ্ন অবস্থায় থাকতো বলেও জানা যায়।
প্রাচীন রোমানদের ভ্যালেন্টাইন নামকরণের জন্য দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয় রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস, যিনি ৩য় শতাব্দীতে ভিন্ন ভিন্ন বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন নামক দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।এরপর ক্যাথলিক চার্চ তাদের স্মরণে দিনটিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে ৫ম শতাব্দীতে পোপ গেলাসিয়াস পৌত্তলিক রীতিনীতি দূর করার উদ্দেশ্যে লুপারকালিয়ার সাথে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন দিবসকে একত্রিত করেন।তখন প্রায় একই সময়ে, নরম্যানদের পালিত ‘গালাটিনস ডে’ (Galatin’s Day), যার অর্থ ছিল ‘নারীদের প্রেমিক’, সম্ভবত উচ্চারণের মিলের কারণে ভ্যালেন্টাইন ডে'র সাথে মিশে যায়। জিওফ্রি চসার এবং উইলিয়াম শেক্সপিয়রের মতো লেখকদের লেখনীতে দিনটি ধীরে ধীরে রোমান্টিক রূপ পেতে শুরু করে।
সূত্র: NPR

Post a Comment