পান্তা ভাত প্রস্তুতির সময় ভাতকে পানিতে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখার ফলে সেখানে একটি স্বাভাবিক ফারমেন্টেশন (গাঁজন) প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভাতের শর্করা (স্টার্চ) ধীরে ধীরে ভেঙে বিভিন্ন জৈব যৌগ তৈরি হয়, যার মধ্যে সামান্য পরিমাণে ইথাইল অ্যালকোহলও থাকতে পারে।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণত ১–২ দিন ভিজিয়ে রাখা পান্তা ভাতে অ্যালকোহলের পরিমাণ খুবই নগণ্য থাকে, যা মানুষের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য নেশাজনিত প্রভাব ফেলে না। তবে দীর্ঘ সময় (বিশেষ করে ৩ দিনের বেশি) ফারমেন্টেশন চলতে থাকলে অ্যালকোহলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
পান্তা ভাত খাওয়ার পর যে হালকা ঘুম ঘুম ভাব বা শরীর শিথিল অনুভূত হয়, তার পেছনে আংশিকভাবে এই স্বল্পমাত্রার ফারমেন্টেশন-উৎপন্ন যৌগগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়। তবে এটি একমাত্র কারণ নয়; খাদ্যের ধরন, গরম আবহাওয়া এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও এতে ভূমিকা রাখে।
গরমকালে তাপমাত্রা বেশি থাকায় ফারমেন্টেশন দ্রুত ঘটে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। শীতকালে একই প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে চলে।
পুষ্টিগত দিক থেকে পান্তা ভাতকে একটি উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফারমেন্টেশনের ফলে এতে থাকা কিছু খনিজ উপাদান—যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক—শরীরের জন্য আরও সহজলভ্য হয়ে ওঠে। পাশাপাশি এটি কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে প্রোবায়োটিক-সদৃশ প্রভাবও সৃষ্টি করতে পারে।
তবে খাদ্য নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় (১২ ঘণ্টার বেশি) ভিজিয়ে রাখা ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। অনেক ক্ষেত্রে ভাত ভালোভাবে ধুয়ে বা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি কমে।