ক্যান্সার চিকিৎসায় গবেষকরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন এক অভিনব পদ্ধতির ওপর কাজ করছেন যেখানে জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্ড ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে টিউমার ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সিনথেটিক বায়োলজি ও টার্গেটেড থেরাপির সংমিশ্রণে একটি উদীয়মান গবেষণা ক্ষেত্র।
কানাডার বিভিন্ন গবেষণা দলে মাটি-উৎপন্ন ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি, বিশেষ করে Clostridium sporogenes-এর মতো অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়াকে ক্যান্সার টিস্যু লক্ষ্য করার জন্য পরিবর্তিত করার কাজ চলছে। এই ব্যাকটেরিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি অক্সিজেন-স্বল্প বা অক্সিজেনহীন পরিবেশে বেশি সক্রিয় থাকে।
সাধারণত কঠিন (solid) টিউমারের ভেতরের অংশে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকে। এই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে গবেষকরা ব্যাকটেরিয়াগুলোকে টিউমারের গভীরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রচলিত ওষুধ অনেক সময় কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারে না।
কিছু পরীক্ষামূলক মডেলে দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়া টিউমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সেখানে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং টিউমার মাইক্রোএনভায়রনমেন্টকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এটি সরাসরি “টিউমার খেয়ে ফেলা” নয়—বরং জটিল জৈবিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করা বা ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া সক্রিয় করার একটি নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। কারণ ব্যাকটেরিয়া যদি শরীরের সুস্থ টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা বিপজ্জনক হতে পারে। এ কারণে গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে জেনেটিক কন্ট্রোল সার্কিট (যেমন quorum sensing ও synthetic kill-switch) সংযোজনের চেষ্টা করছেন, যাতে এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিবেশে সক্রিয় থাকে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তি মূলত প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়—অর্থাৎ ল্যাবরেটরি ও প্রাণী-ভিত্তিক পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ। মানবদেহে ব্যবহার করার আগে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি সম্ভাবনাময় দিক হলেও এখনই নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিকল্পে পরিণত হতে পারে।