মানব মস্তিষ্ক (brain) শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলেও এটি একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে—এর নিজস্ব কোনো pain receptors (nociceptors) নেই। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের নিজস্ব টিস্যু সরাসরি ব্যথা অনুভব করতে পারে না।
এই কারণে মস্তিষ্কের ভেতরের টিস্যু স্পর্শ করা বা কিছু ক্ষেত্রে সার্জিক্যালভাবে কাজ করা হলেও সরাসরি ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে “মাথা ব্যথা” মিথ্যা বা কল্পিত—বরং ব্যথার উৎসটি ভিন্ন জায়গায়।
তাহলে মাথাব্যথা হয় কেন?
যেটাকে আমরা সাধারণভাবে “মাথাব্যথা” বলি, তা মূলত আসে মস্তিষ্কের চারপাশের সংবেদনশীল কাঠামো থেকে, যেমন—
- মস্তিষ্কের আবরণ (meninges)
- রক্তনালী (blood vessels)
- মাথার খুলি ও স্ক্যাল্পের পেশি
- স্নায়ু (nerves)
এই টিস্যুগুলোতে চাপ, প্রসারণ, প্রদাহ বা টান সৃষ্টি হলে ব্যথার সংকেত তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কে পৌঁছে আমরা “হেডেক” হিসেবে অনুভব করি।
ব্রেইন সার্জারি ও ব্যথার বাস্তবতা
এই বৈশিষ্ট্যের কারণে কিছু জটিল নিউরোসার্জারি, বিশেষ করে awake brain surgery, সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে রোগীর মাথার বাইরের অংশ স্থানীয়ভাবে অবশ করা হয়, কিন্তু রোগী সচেতন থাকে।
এতে সার্জনরা অপারেশনের সময় রোগীর কথা বলা বা স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, যা গুরুত্বপূর্ণ ব্রেইন ফাংশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা
যদিও মস্তিষ্ক নিজে ব্যথা অনুভব করে না, তবে মাথাব্যথা কখনও কখনও গুরুতর স্নায়বিক বা ভাসকুলার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে চিকিৎসা মূল্যায়ন জরুরি।