Est. 2026
ইনডিপেনডেন্ট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ প্লাটফর্ম
news

কার্টুনসদৃশ স্কেচ থেকেই চিহ্নিত সন্দেহভাজন—মানব স্মৃতির অদ্ভুত ক্ষমতা

সিসিটিভি না থাকলেও হাতে আঁকা সাধারণ স্কেচ থেকেই শনাক্তকরণে পুলিশের সাফল্য

পড়তে লাগবে শুধুমাত্র 2 মিনিট
ফেসিয়াল রিকগনিশন ও মানব স্মৃতির প্যাটার্ন-ম্যাচিং ক্ষমতা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফেসিয়াল রিকগনিশন ও মানব স্মৃতির প্যাটার্ন-ম্যাচিং ক্ষমতা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ল্যাঙ্কাস্টার শহরের একটি মার্কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় তদন্তকারীরা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেন একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণের ওপর।

প্রত্যক্ষদর্শী নিজ হাতে একটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির স্কেচ আঁকেন, যা দেখতে অত্যন্ত সরল ও প্রাথমিক পর্যায়ের একটি চিত্রের মতো ছিল—দুটি বৃত্তাকার চোখ, সরল রেখার নাক এবং কিছু খাড়া চুলের রেখা। বাহ্যিকভাবে এটি প্রায় “কার্টুন স্কেচ”-এর মতো মনে হলেও, এতে কয়েকটি নির্দিষ্ট মুখাবয়বগত বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছিল।

পুলিশ ওই স্কেচটি তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশ করলে এটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে হাস্যকর বলে মনে করলেও, তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মানব মস্তিষ্কের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো প্যাটার্ন রিকগনিশন—অত্যন্ত সীমিত ভিজ্যুয়াল তথ্য থেকেও পরিচিত মুখ শনাক্ত করার ক্ষমতা। এই স্কেচের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য—বিশেষ করে মুখের গঠন ও চোখের অবস্থান—একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পরিচিত বলে মনে হয়।

পরবর্তীতে ওই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়, যার নাম ছিল হাং ফুয়ক গুয়েন। তদন্ত শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, কারণ একটি অত্যন্ত সাধারণ ও প্রায় শিশুদের আঁকা চিত্রের মতো স্কেচ বাস্তব অপরাধী শনাক্তকরণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

এই ঘটনা আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—সবসময় উন্নত প্রযুক্তি নয়, কখনও কখনও মানব স্মৃতি ও ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ ক্ষমতাও তদন্তে কার্যকর হতে পারে।