দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে। তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে—আমরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে, যার একটি বড় অংশ উৎস হচ্ছে ঘরের ভেতরের বাতাস।
গবেষণা অনুযায়ী, সিনথেটিক বা কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাক (যেমন পলিয়েস্টার), কার্পেট, পর্দা এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র থেকে নিয়মিতভাবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থেকে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে।
২০২১ সালে চীনে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঘরের ভেতরের বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বাইরের পরিবেশের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ বেশি হতে পারে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে পরিচালিত একটি গবেষণায় ঘরের ভেতরের ঘনত্বকে বাইরের তুলনায় প্রায় ১.৮ গুণ বেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে প্রধান কারণ হলো—ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, বন্ধ পরিবেশ, এবং দৈনন্দিন ব্যবহৃত সিনথেটিক সামগ্রীর পরিমাণ। দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিবেশে অবস্থান করলে এই ক্ষুদ্র কণার সংস্পর্শও বৃদ্ধি পায়।
যদিও মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানবস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো গবেষণাধীন, তবুও এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদীয়মান উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে গবেষকরা ঘরের বাতাসের গুণগত মান উন্নয়ন, প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।